জ্যোৎস্না রাত্রির হাইওয়ে

অসিতবরণ সর্পের ন্যায় ঢেউ খেলানো পথের এক চিলতে ফালি
পবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আঘাত হেনে শো শো শব্দে বিদারিত করে ছুটছে গাড়ি।
অংশুমালীর মরাকটালে ভেসে পূর্ব গগনতলে শশীর আগমন এমনই এক ক্ষণে
নিষ্প্রাণ ঝর্ণায় হঠাৎ প্রাণদ সঞ্চারণে, শুষ্ক রোমে যেমন সপ্তসুর বহে যায়।
শশীর আগমনে ঠিক তেমনি প্রানবায়ুর উচাটন ঘটে
কিয়ৎকাল পূর্বের অংশুমালীর মুখ
এখন কেউ যেন এক চিলতে কাপড়ে ঢেকে দিলো।
তারই প্রতিপ্রভাতে আধো আলোর এই রহস্যময়ী সন্ধ্যা
গাড়িখানা তখনও সাপের পিছনে দৌড়ায়!
চন্দ্রসুধার আসর জমেছে রাস্তার দু’দিকেই,
বিস্তীর্ণ প্রান্তর ছাপিয়ে।
বিটপী লতার পাক্ষিক তমসার ঘোর ছেড়ে জ্যোৎস্নাকেলিতে ভাসানের সময় এসেছে।
শব্দহীন অনুনাদের তালে দুলছে ওরা
গাড়িখানা তখনও দৌড়ায়!
বাতাসের তোড়ে কচ্ছপের খোলস থেকে মাথা উচিয়ে দেখছে ওরা
শর্বরীর গভীরতার সাথে গন্ধ ছড়ায় এই নিশ্চুপ প্রাণের স্তুপ
কচিপাতা আর পুষ্পরেণুর মিষ্টি ঘ্রাণের পরশ বুলিয়ে যায় বাতাসের অনু পুঞ্জগুলো।
ঐ পরশে জলাতে আশীবিষের নির্লিপ্ত কামনার আহবান নামে।
ইন্দ্রজালে আটকে পড়া মীন কূলের টুপটাপ শব্দের সুরলহরী
হিরণ্যপুচ্ছে সজ্জিত পতঙ্গের ঝলমল করা আলোকপুঞ্জ,
মনুষ্যবিহীন মহাভোজের দিকপালকে সূচিত করে ঐ মায়াবী প্রান্তরে।

দৃষ্টির সীমানায় দাঁড়ানো কোনো ছোট্ট কুটিরের দাওয়ায়
বনিতার শ্রুতিতে তখন কর্তার গমনপথের প্রতিটা শব্দ রীলে হচ্ছে।
অপেক্ষার জাল সেখানে দীর্ঘ থেকে হচ্ছে দীর্ঘতর,
গাড়িখানা ছুটছে।
গাড়িতে রুদ্ধ কোনো যাত্রীর ইন্দ্রিয়গুলো সময়ের মালায় গেঁথে নিচ্ছে প্রতিটা মুহূর্তের অবারিত
প্রসাদ।

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট