সেপ্টেম্বর 23, 2026

“তুমি কি আমার হলে মন্দ হতো?
তোমার গাওয়া সেই গান
কি আমার হলে মন্দ হতো?
তোমার সেই প্রবন্ধ কি আমার হতে পারতো না?
এমন হলে কী হতো না,
তোমার লিখা কবিতা আমাকে নিয়ে হতো ! “

সকাল ৯ টা ৫০ এ এমন ছন্দহীন পঙক্তির আবির্ভাব মস্তিষ্কে হওয়ার কারণ খুঁজে পাইনি না পেতে চাইনি জানি না৷ স্বাধীনচেতা এক মেয়ের মাথায় এইসব জিনিস এসে তার দৃঢ় চেতনায় আঘাত আনার আগেই নিজেকে সজাগ করে নিলাম। যেই একটু ফোনটা হাতে ধরবো তখনই ভেসে আসে এক ‘অতিপরিচিত’ শব্দগুচ্ছ, “দশটা বেজে গেছে। আমি এইদিকে সকাল বেলা উঠে তোদের জন্য নাস্তা করি আর তোরা উঠে একটু খেয়ে নিতে পারছিস না?”

সে কন্ঠ অবজ্ঞা করলে যে আমার কপালে দুঃখ আছে সেটা যেহেতু জানি তাই আর দেরি করলাম না। প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ শেষ করে যখন দেখলাম নিজের পছন্দের খাবার ‘কালাই রুটি’ তৈরি হয়েছে তখন মনের কোণে থাকা সেই সামান্য বিরক্তি ভাবটা ইতোমধ্যেই অসামান্য উৎফুল্লতায় পরিবর্তন হয়ে গেছে।

খেতে বসেছি, এমন সময় হঠাৎ মনে পড়লো সামনে সোমবার তো পরীক্ষা! পরীক্ষার কথা মনে পড়লে মস্তিষ্কে যে বিতৃষ্ণা কাজ করে তা দূর করার তাগিদেই ফোনটা হাতে নিলাম,
হাতে নেওয়া মাত্রই বন্ধু বুড়ির ম্যাসেজ সামনে আসলো। গত সপ্তাহ ভার্সিটির জাতাঁকলে সম্পূর্ণ পিষতে থাকায় ওর সাথে ঠিকভাবে কথা বলা হয়ে উঠেনি। প্রিয় খাবার প্রিয় বন্ধুকে দেখানোর খেয়াল মাথায় আসলো, চট করে ফ্রেমবন্দী করলাম খাবারের ছবি এবং ডিজিটাল কবুতর দিয়ে পাঠিয়েও দিলাম। তখন ১০ টা ৩৪ বাজে,রুটির স্বাদ নষ্ট হওয়ার ভয়ে খোশগল্প শেষ করে খাওয়া দাওয়া শুরু করলাম।
সময়ের ব্যবধান বেশি ছিল না।

১০ টা ৩৮ মিনিটে কংক্রিটের বাসস্থান সজোরে কাঁপিয়ে আঘাত আনলো ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প।
মাত্র কয়েক মিলি সেকেন্ড আগে হাজারো ভাবনায় মগ্ন থাকা মস্তিষ্ক হঠাৎ পুরোই স্তব্ধ হয়ে গেল। সেই মুহূর্তে এই স্তব্ধ মস্তিষ্কে শুধু একটাই তীক্ষ্ণ তীর আঘাত আনলো, “মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করবেন তো!”

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp