দ্য লেফটওভার

শুরুর কথা

জুন ১৭৬০। জিনজিরা প্রাসাদ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

এখন মধ্যরাত, কিন্তু আমিনা বেগমের চোখে ঘুম নেই। শুয়ে পড়েছিলেন দশটার দিকেই, তন্দ্রাও এসেছিল, কিন্তু একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে গেল।

দুঃস্বপ্নটা তাঁর মৃত ছেলে সিরাজকে নিয়ে। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব ছিল সে। কিন্তু, মীর জাফরের বিশ্বাস-ঘাতকতায় পলাশীর যুদ্ধে তাকে পরাজয় বরণ করতে হলো। পালিয়ে পাটনার দিকে চলে গিয়েছিল ছেলেটা। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে গেল। মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো তাকে। তারপর, ২ জুলাই (১৭৫৭ সাল) রাতে চব্বিশ বছরের টগবগে তরুণ সিরাজকে ওরা মেরে ফেললো!

পরদিন সকালে অভাগা ছেলেটার মস্তকবিহীন লাশ হাতির পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হলো সারা মুর্শিদাবাদ শহরে। আমিনা বেগমের বাসা ছিলো শহরের এক প্রান্তে। সন্তানহারা মাকে ওরা রেহাই দিতে পারতো। কিন্তু, পিশাচের দল উল্লাস করতে করতে তাঁর বাসার সামনেও হাজির হলো। ছেলের বিকৃত লাশ দেখে আমিনা বেগম নিজেকে সামলাতে পারেননি, উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে গিয়ে হাতির পায়ে আছড়ে পড়লেন। যেন হাতি দয়া করলেই ছেলেকে তিনি জীবিত অবস্থায় ফিরে পাবেন।

প্রায় তিন বছর হয়ে গেল, এখনও সেদিনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য দুঃস্বপ্ন হয়ে তাঁকে তাড়া করে।

গজব নেমে আসুক মীর জাফর আর তার বংশধরদের উপর, মনে মনে বললেন আমিনা বেগম। হাত দিয়ে চোখের জল মুছলেন তিনি। সন্তানহারা সব মায়ের কান্না বোধ হয় একই রকম।

গত দু’বছর ধরে জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁকে। একই প্রাসাদে বন্দী আছেন তাঁর বড় বোন ঘসেটি বেগম, তাঁদের মা (নবাব আলিবর্দি খানের স্ত্রী) শরিফুন্নেসা বেগম, সিরাজ-উদ-দৌলার বিধবা স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম (বিয়ের আগের নাম রাজকুনোয়ারি) আর একমাত্র সন্তান উম্মে জোহরা। জোহরা মেয়ে বলে কখনও নবাব হতে পারবে না, তাই তাকে হত্যা করা হয়নি।

বুড়িগঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে নির্মিত এই জিনজিরা প্রাসাদটি নদীর মতোই উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে লম্বা। উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে রাখা হয়েছে ঘসেটি বেগমকে, মাঝের অংশে আছেন আমিনা বেগম আর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে বৃদ্ধা শরিফুন্নেসা বেগমের সাথে রাখা হয়েছে বিশ বছর বয়সী লুৎফুন্নেসা আর তার ছয় বছরের মেয়ে জোহরাকে।

সপ্তাহে একদিন এক ঘন্টার জন্য আমিনা বেগম তাঁর মা, পুত্রবধূ আর জোহরার সাথে দেখা করতে পারেন।

তাঁর বড় বোন ঘসেটি বেগমকে কারও সাথে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয় না। ঘসেটি বেগম সব সময় নানা ফন্দি-ফিকির করতে থাকেন বলে এমন কড়া নিষেধাজ্ঞা। তবে, দেখা করতে দিলেও আমিনা বেগম বা লুৎফুন্নেসা তার সাথে কথা বলতেন কিনা সন্দেহ। ঘসেটি বেগম অনেক চেষ্টা করেছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলার পরিবর্তে তার খালাতো ভাই (আমিনা বেগমের মেজো বোন মুনিরা বেগমের ছেলে) শওকত জংকে নবাব বানাতে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি মীর জাফরকে অনেক ধন-সম্পদ উপঢৌকনও দিয়েছিলেন, যদিও তাদের চেষ্টায় তখন কোন কাজ হয়নি। বরং সিরাজ নবাব হয়ে ঘসেটি বেগমের ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে, যাতে তিনি আর কোন ষড়যন্ত্র করতে না পারেন।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ভাবলেন আমিনা বেগম। ঘসেটি বেগম থাকতেন ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে জগদ্বিখ্যাত মতিঝিল প্রাসাদে। আর লুৎফুন্নেসা থাকতো সিরাজের সাথে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে হীরাঝিল প্রাসাদে। আজ দু’জনের ঠাঁই হয়েছে একই বন্দীশালার দুই প্রান্তে।

আগামীকাল সকালে আমিনা বেগম আর ঘসেটি বেগমকে মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নেয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে গত পরশু সেখান থেকে লোক এসেছে। দু’দিন ধরে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নদীপথে বজরায় যেতে হবে।

মুশকিল হলো, মীর জাফরের যেসব অনুচর এ ধরনের কাজ করে, তারা আসেনি। এসেছে জমাদার বকর খান, মীর জাফরের পিশাচতুল্য ছেলে মীরনের অপকর্মের একজন সহযোগী। আমিনা বেগমের মনে তাই দুঃশ্চিন্তা। তিনি কোন ধরণের রাজনীতি বা ষড়যন্ত্র কখনও করেননি। কিন্তু, ঘসেটি বেগম বন্দী অবস্থায়ও মীর জাফরের মাথাব্যথার কারণ। আর, দু’বোন যেহেতু এক সাথে যাচ্ছেন, ওরা ঘসেটি বেগমকে মারলে তাঁকে নিশ্চয়ই বাঁচিয়ে রাখবে না। কীভাবে মারবে? নৌকাডুবি? ডাকাতি?

যা হয় হোক, ভাবলেন আমিনা বেগম। বেঁচে থেকেই বা লাভ কী? প্রতিদিন সিরাজকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে। তিন বছর আগে ওরা সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করে ধন-সম্পদ সব লুটে নিয়েছে, অবশিষ্ট কিছু নেই। বেঁচে আছে শুধু সিরাজের ছোট্ট মেয়েটি।

নবাব হতে না পারুক, বংশের প্রদীপ হয়ে বেঁচে থাকুক উম্মে জোহরা।

গজব নেমে আসুক মীর জাফর আর তার বংশধরদের উপর, আবার মনে মনে বললেন আমিনা বেগম।

পরদিনই ধলেশ্বরী নদীতে ‘নৌকাডুবিতে’ মৃত্যু হওয়ায় আমিনা বেগম দেখে যেতে পারেননি, সৃষ্টিকর্তা তাঁর শেষ ইচ্ছেগুলো পূরণ করেছেন। উম্মে জোহরা বড় হয়ে চার সন্তানের মা হয়েছেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বংশধরেরা আজও বেঁচে আছে। মানুষ যখন জানতে পারে তাঁরা সিরাজ-উদ-দৌলার বংশধর, আপন করে তাঁদেরকে বুকে টেনে নেয়।

মীর জাফরের বংশধরেরাও বেঁচে আছে। কিন্তু, তারা তার পরিচয় দিতে চায় না। মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের বাড়ির গেটকে (বাড়িটি অবশিষ্ট নেই) সবাই বলে ‘নেমকহারাম দেউড়ি’ (Traitor’s Gate)।

(১)

বিকেল চারটায় ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরলো রেণু।

ওর মা গম্ভীর মুখে সোফায় বসে আছেন। কাজের মেয়ে মিনার সাড়া-শব্দ নেই। পাশের ফ্ল্যাটে জিনিসপত্র টানাটানির শব্দে রেণু বুঝতে পারলো বুড়ো লোকটা তাঁর কাজে সাহায্য করার জন্য মিনাকে আবার ডেকে নিয়েছেন। এই কারণেই মা রেগে আছেন, সন্দেহ নেই।

মা নিশ্চয়ই আমাকে কথা শোনাবে, ভাবলো রেণু। সমস্যাটা ওর তৈরি করা। ‘বাথরুম করে আসি’ বলে দ্রুত নিজের রুমে ঢুকে পড়লো ও।

রেণুর বাবা বছর তিনেক আগে লিভার ক্যান্সারে মারা গেছেন। ও তখন ইতিহাস বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ক্যান্সার ধরা পড়ার আগেই বাবা এই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। মা উঠে পড়ে লেগেছিলেন ফ্ল্যাটটা বিক্রি করে বাবার চিকিৎসা করার জন্য। কিন্তু, ক্যান্সার শেষ পর্যায়ে থাকায় বাবা তাতে রাজি হননি। জীবনের শেষ কয়েকটি সপ্তাহ তিনি হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে কাটিয়েছেন। বলেছেন, এক ক্যান্সারে একজন মরুক, সবাই মরার দরকার নেই।

রেণুর বড় ভাই পলাশ ক্যানাডায় ইকোনমিক্স-এ পিএইচ.ডি. করছে। বাবা মারা যাবার পর একবার ঘুরে গেছে, আর দেশে আসার নাম নেই।

বছরখানেক আগে পাশের ছোট ফ্ল্যাটটি বুড়ো ভদ্রলোক ভাড়া নিয়েছেন। একাই থাকেন তিনি। কখনও কাউকে তাঁর বাসায় বেড়াতে আসতে দেখা যায়নি। তিনিও কারও বাসায় বেড়াতে যান বলে মনে হয় না। তাঁর নাম জানা নেই বলে রেণুর কাছে তার পরিচয় ‘বুড়ো’।

একজন ছুটা বুয়া বুড়োর বাসায় কাজ করতো। সপ্তাহ দুয়েক আগে বুড়ো অনেক হৈ চৈ করে বুয়াকে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করলেন। তার দাবী, বুয়া তার প্যান্টের পকেট থেকে এক হাজার টাকা চুরি করেছে। বুয়াকে পুলিশ অ্যারেস্ট করতে এলে বিল্ডিং এর ম্যানেজার মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

এরপর থেকে আর কোন বুয়া বুড়োর বাসায় কাজ করতে রাজী হয় না।

সপ্তাহ খানেক আগে রেণু গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিলো। এমন সময় বুড়ো বাইরে থেকে ফিরলেন। রেণুর সালামের উত্তরে মাথা ঝাঁকালেন। এর আগে দেখা হলে সালাম বিনিময় ছাড়া কোন কথা হতো না, কিন্তু সেদিন বুড়ো কথা বলতে শুরু করলেন।

‘মা, তুমি তো 5B-তে থাকো, তাই না?’ এটাকে ঠিক প্রশ্ন বলা যায় না।

‘জী, আংকেল। আপনি কি কাজের বুয়া জোগাড় করতে পেরেছেন?’

‘এটা নিয়েই কথা বলতে যাচ্ছিলাম। সাতদিন ধরে কাজের লোক ছাড়া চলছি, আমি একজন অসুস্থ মানুষ –’

অসুখটা কী, তা রেণু জানে। দু’দিন আগে বিল্ডিং-এর ম্যানেজারের কাছে শুনেছে বুড়ো মানুষটার ক্যান্সার ধরা পড়েছে।

‘তোমাদের বাসায় তো একটা কাজের মেয়ে আছে –’ আবার বলতে শুরু করলেন বুড়ো।

‘ও তো খুব ছোট। মাত্র দশ বছর বয়স।’

‘আমি তো এখানে আর মাত্র দিন দশেক আছি। যদি –’

‘আপনি চলে যাচ্ছেন তা তো জানতাম না!’

‘কাউকে বলিনি। বাড়িওয়ালাকেও না। এজন্য এক মাসের বাড়ি ভাড়া লস হবে, কিন্তু কিছু করার নেই। যা বলছিলাম, যদি এই ক’টা দিন এক ঘন্টা করে মেয়েটা আমার কাজ করে দেয়, আমার অনেক উপকার হয়। আমি অবশ্যই পে করবো।’

লোকটার দুরাবস্থা দেখে রেণুর খুব মায়া হলো। মায়ের অনুমতি না নিয়েই বলে ফেললো, ‘ঠিক আছে, আংকেল। মাত্র দশটা দিন তো, ম্যানেজ করা যাবে।’

ঘটনা শুনে মা রেণুকে অনেক বকাঝকা করলেন। তবে, মেয়ে কথা দিয়েছে বলে মিনাকে কাজ করতে না করলেন না। মিনার কোন আপত্তি দেখা গেল না, কারণ প্রতিদিন কাজ করে আসার সময় বুড়ো ওকে এক শ’ টাকার একটা কড়কড়ে নোট দেয়।

আজ সকালেও মিনা কাজ করে এসেছে। কিন্তু, বিকেলে বুড়ো ওকে আবার ডেকেছেন।

ঘন্টাখানেক পরে ফিরলো মিনা, হাতে দু’শ টাকা, মুখে ফোকলা দাঁতের হাসি। জানালো, রেণু আফারে বুড়ায় ডাকছে।

রেণু বুড়োর বাসায় ঢুকে দেখে বাসাবদলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ওকে সোফায় বসতে দিয়ে মুখোমুখি বসলেন বুড়ো।

‘আপনি কি আজই চলে যাবেন?’ রেণুর একটু খারাপই লাগছে।

‘না, আমি যাবো পরশু সকালে। গোছানোর কাজটা একটু এগিয়ে রাখলাম।’

‘কোথায় বাসা নিয়েছেন?’

বুড়ো ম্লান হাসলেন। বললেন, ‘বাসায় নয়। একটা নার্সিং হোমে যাব।’

‘আপনার ছেলে-মেয়ে সবাই কি দেশের বাইরে? অন্য আত্মীয় –’

‘কোথাও কেউ নেই। আমি আমার অভিশপ্ত বংশের শেষ জীবিত ব্যক্তি। আমার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নাদের আলীর বংশ বিলুপ্ত হবে।’

‘নাদের আলী – ?’

‘তুমি তো ইতিহাসের ছাত্রী। আমি তোমার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছি, কারণ আমি তোমাকে একটা দায়িত্ব দিতে চাই – কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে লিখতে হবে। তুমি কি রাজী আছো?’

‘অবশ্যই। কী ঘটনা বলুন।’

‘আমার সাথে আসো।’

বুড়ো তাকে তাঁর বেডরুমে নিয়ে গেলেন। রেণু দেখলো, একপাশে একটি পুরানো আমলের ট্রাংক রয়েছে। বোধ হয় অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি।

‘এটা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মা আমিনা বেগমের সিন্দুক। তবে, মূল্যবান কিছু নেই ভিতরে, মূল্যবান সবকিছু মীর জাফরের অনুচরেরা পলাশী যুদ্ধের পরেই লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছিলো। সিন্দুকে আছে কিছু লেফটওভার, মানে উচ্ছিষ্ট – মূলত ব্যবহারের পোশাক। আর আছে আমিনা বেগমের নিজের হাতে লেখা একটা চিঠি।’

‘কার কাছে লেখা?’

‘নির্দিষ্ট কারও কাছে লেখা নয়। বলতে পারো, সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে লেখা নোট।’

‘গত ২৫০ বছরে কেউ এটা প্রকাশ করেনি কেন?’

‘আমার পূর্ব-পুরুষ নাদের আলী ছিলেন একজন মাঝি। তিনি ঘষেটি বেগম আর আমিনা বেগম হত্যার সহযোগী ছিলেন। বিনিময়ে কিছু অর্থ-সম্পদের সাথে এই সিন্দুকটিও পেয়েছেন। কিন্তু, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মাকে মেরেছেন, এই কথা জানলে মানুষ প্রতিশোধ নিতে পারে, এই ভয়ে সিন্দুক আর চিঠি লুকিয়ে রাখতেন। তাঁর বংশধরেরাও তা-ই করেছে। মীর জাফরের বংশধরদের কী দশা হয়েছে জানো নিশ্চয়ই। আমারও যদি ছেলে-মেয়ে থাকতো, এসব প্রকাশ করতাম না। কিন্তু, বছর দুয়েক আগে আমার ওয়াইফ আর ছেলে রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেল। তিন কূলে আমার আর কেউ নেই। বংশ রক্ষার জন্য ভেবেছিলাম কোন বিধবা বা ডিভোর্সড মহিলাকে বিয়ে করবো। সেই জন্যে এই ফ্ল্যাটে উঠেছিলাম। কিন্তু, ক্যান্সার ধরা পড়ায় এখন মৃত্যুর দিন গুনছি। সঠিক ইতিহাস প্রকাশ করতে কোনও বাধা নেই।’

‘আমিনা বেগমের চিঠিটা পড়তে হবে, যাচাই-বাছাই করতে হবে –’

‘অবশ্যই। সিন্দুকটা এখন তোমার। আমি একটা agreement তৈরি করেছি। সঠিক ইতিহাস প্রকাশের শর্তে তোমাকে এই সিন্দুক আর ভিতরের জিনিসপত্র দেয়া হলো। এসো তুমি আর আমি দুজনে সাইন করি।’

‘অনেক কঠিন একটা দায়িত্ব দিচ্ছেন। আমি কি একজন সিনিয়র ভাইয়ার সাহায্য নিতে পারি? সে মাস্টার্সের থিসিস জমা দিয়ে রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছে।’

‘অবশ্যই। শিমূল নামের হ্যানসাম ছেলেটার কথা বলছো তো?’

রেণুর দু’গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেল।

(২)

বুড়োর বাসা থেকে বের হয়েই রেণু শিমূলকে কল দিলো। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মায়ের চিঠির কথা শোনা মাত্রই ‘আমি এখনই আসছি’ বলে ফোন কেটে দিলো শিমূল।

ও রেণুদের বাসায় পৌঁছাতেই গড়গড় করে সব ঘটনা একসাথে বলতে শুরু করলো মেয়েটা।

‘কুল ডাউন,’ বললো শিমূল। ‘আগে সিন্দুক আর চিঠিটা দেখাও।’

সিন্দুকটি এখন ঠাঁই পেয়েছে রেণুর বেডরুমে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে সিন্দুকটির বাইরের গড়ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো শিমূল, তারপর ডালা খুলে ভেতরের প্রত্যেকটি পোশাক নেড়েচেড়ে দেখলো।

‘এগুলো অষ্টাদশ শতাব্দীর, তাতে সন্দেহ নেই। ঐ সময়ে সম্ভ্রান্ত মহিলারা এরকম পোশাকই পরতেন। তবে, এগুলো আমিনা বেগমের কিনা, তা যাচাই করতে অনেক সময় লাগবে। চিঠিটা কোথায়?’

রেণু ওর পড়ার টেবিলের ড্রয়ার থেকে চিঠিটা বের করে শিমূলের হাতে দিলো। বললো, ‘আপনার ফোর্থ ইয়ারের প্রজেক্ট সিরাজ-উদ-দৌলার উপর ছিলো না?’

‘হ্যাঁ।’

চিঠিটার দিকে মনোযোগ দিলো শিমূল। প্রথমে ফার্সি ভাষায় লেখা চারটি ছোট লাইন, দেখে মনে হচ্ছে চার লাইনের একটি পদ্য। ফার্সি ভাষা শিমূলের জানা নেই, ফার্সি আর আরবী লেখা ওর কাছে এক রকম মনে হয়। তবে, ওর জানা আছে, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পূর্ব-পুরুষরা ইরান থেকে এদেশে এসেছেন এবং ফার্সি ছিল তাঁদের ব্যবহৃত ভাষা।

চার লাইনের পদ্যে কী লেখা আছে, তা উদ্ধার করতে হবে, ভাবলো শিমূল।

মূল চিঠিটা বাংলায় লেখা। একটু ভ্রু কোঁচকালো শিমূল, তারপর মনোযোগ দিয়ে পড়ে ফেললো:

জিনজিরা প্রাসাদ, ঢাকা                             

২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১১৬৭ (৭ জুন, ১৯৬০ খ্রি: )

আমি, আমিনা বেগম, বাংলাবিহারউড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলার মাতা পলাশীর যুদ্ধে আমার পুত্রের পরাজয় এবং পরবর্তীতে বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের অনুচরদের হাতে তাঁহার করুণ মৃত্যু ইতিহাসে পঠিত হইবে এই বিষয় লইয়া আমার কিছু বলিবার নাই

আমার জ্যেষ্ঠা ভগ্নি ঘসেটি বেগম সিরাজউদদৌলার পরিবর্তে আমাদের দ্বিতীয়া ভগ্নি মুনিরা বেগমের পুত্র শওকত জংকে নবাব পদে অধিষ্ঠিত করিতে সচেষ্ট ছিলেন আমি তখন তাঁহার উপর নাখোশ হইয়াছিলাম, কারণ তিনি মীর জাফরকে উপঢৌকন দিয়া দলে ভিড়াইয়াছিলেন

সিরাজউদদৌলার করুণ পরিণতির জন্য আমি আমার জ্যেষ্ঠা ভগ্নিকে এতদিন দায়ী করিয়াছি, কিন্তু এখন আমি বুঝিতে পারিয়াছি, ইংরেজদের সহিত ষড়যন্ত্রে তিনি জড়িত ছিলেন না

এক ভগ্নির পুত্রের পরিবর্তে অন্য ভগ্নির পুত্রকে নবাব বানাইবার প্রচেষ্টা দোষের নহে মীর জাফরের সহিত একদা তাহার সখ্যতা থাকিলেও মীর জাফরের পরবর্তী কর্মকান্ডের সহিত তাঁহার সম্পৃক্ততা ছিলো না থাকিলে তাঁহাকেও আমার মতন বন্দী করা হইতো না

এই ব্যাপারে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করিবার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে অনুরোধ করিতেছি

ইতি,

আমিনা বেগম

চিঠিটা হাতে নিয়ে সোফায় রেণুর মুখোমুখি বসলো শিমূল। ওর মুখে চিন্তার ছাপ।

‘কী, বলছেন না যে কিছু?’ অধৈর্য কণ্ঠে বললো রেণু।

‘চিঠিটা আসল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। যতটুকু মনে পড়ে, আমিনা বেগম বাংলায় কথাবার্তা বলতে পারলেও বাংলা লিখতে বা পড়তে পারতেন না।’

‘বলেন কী?’ রেণুর মনটা হতাশায় ছেয়ে গেল।

‘মন খারাপ করো না। আমি মোবাইলে চিঠিটার ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছি। দু’ একদিন স্টাডি করে দেখি। তুমি পাশের বাসার আংকেলের কাছ থেকে একটা এফিডেভিট নিয়ে রেখো।’

‘এফিডেভিট মানে কী?’

‘হলফনামা। আংকেলকে সাথে নিয়ে নোটারী পাবলিকের কাছে যেতে হবে। তার লিখিত বক্তব্য ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করে তার সিগনেচার নিয়ে নোটারাইজ করতে হবে। আংকেলকে বললেই তিনি বুঝবেন।’

‘আচ্ছা।’

‘তোমাদের সাথে আমিও যাবো। নইলে তোমার কষ্ট হবে।’

রেণুর মনটা খুশিতে ভরে গেল।

(৩)

দু’দিন শিমূলকে অনেক পরিশ্রম করতে হলো। বিভিন্ন ইতিহাসের বই, দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে ও নিশ্চিত হলো, আমিনা বেগম বাংলা লিখতে ও পড়তে পারতেন না। তাঁর সব চিঠিপত্র ও নথি ফার্সিতে লেখা। তাঁর ফার্সি লেখার সাথে চিঠির ফার্সি লেখার কোন ধরণের মিল নেই।

শিমূল সিদ্ধান্তে পৌঁছালো, চিঠিটা আমিনা বেগমের লেখা নয়।

হঠাৎ ওর মাথায় চিন্তাটা এলো। চিঠিতে আমিনা বেগম তাঁর বড় বোনের ব্যাপারে কথা বলেছেন, আর কারও ব্যাপারে নয়। ঘসেটি বেগমের হাতের লেখার সাথে মেলাতেই ধাঁধাঁর সমাধান হলো। ঘসেটি বেগমের ফার্সি লেখার সাথে চিঠির ফার্সি লেখা মিলে গেল। আবার, ঘসেটি বেগমের বাংলা লেখার সাথে চিঠির বাংলা লেখা মিলে গেল।

শিমূল সিদ্ধান্তে পৌঁছালো, চিঠিটা ঘসেটি বেগম লিখেছেন, কিন্তু নাম দিয়েছেন আমিনা বেগমের। কারণটা বোধগম্য। ঘসেটি বেগম দেখলেন মীর জাফরের পাশাপাশি তাঁকেও মানুষ বিশ্বাসঘাতক মনে করতে শুরু করেছে। তিনি বুঝতে পারলেন, নিজেকে তিনি যতই নির্দোষ দাবী করেন, মানুষ তাঁর কথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু, আমিনা বেগমকে মানুষ শ্রদ্ধা করে, ভালবাসে। তাই তাঁর নাম ব্যবহার করে ঘসেটি বেগম নিজের দুর্নাম ঘোচানোর চেষ্টা করেছেন।

চিঠির বক্তব্যটা কি সত্যি? যাচাই করা দরকার, ভাবলো শিমূল। বিভিন্ন বই-পুস্তক আর ইন্টারনেট নিয়ে আবার ব্যস্ত হলো সে।

জানা গেল, সিরাজ-উদ-দৌলা নবাব হবার পর ঘসেটি বেগমের মতিঝিল প্রাসাদের সব ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিলেন (ঘসেটি বেগম শওকত জং-এর পক্ষ নেয়ায়)। আর কোন উল্লেখযোগ্য অর্থ-সম্পদ ঘসেটি বেগমের ছিল না। পলাশীর যুদ্ধের আগে মীর জাফরকে কোন ধরণের আর্থিক সহায়তা করার মত অবস্থায় তিনি ছিলেন না।

ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলার আপন খালা। তাঁর স্বামী নওয়াজেশ আলী খান ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলার আপন চাচা। (আলিবর্দি খান তাঁর তিন মেয়েকে বড় ভাইয়ের তিন ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন।) তাছাড়া, নিঃসন্তান ছিলেন বলে ঘসেটি বেগম সিরাজ-উদ-দৌলার আপন ছোট ভাই একরাম-উদ-দৌলাকে পালক-পুত্র হিসেবে নিয়েছিলেন, যদিও তরুণ বয়সে ছেলেটি বসন্ত-রোগে মারা গিয়েছিলো।

সিরাজ-উদ-দৌলার মত এমন একজন নিকটাত্মীয়কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ঘসেটি বেগম? মিলছে না।

শিমূল এবার পড়তে শুরু করলো ব্রিটিশদের লেখা পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস। দেখা গেল, রবার্ট ক্লাইভ বা তার লোকদের সাথে মীর জাফর বা তার নানা সহকারীর যোগাযোগ বা বৈঠকের কথা উল্লেখ থাকলেও ঘসেটি বেগমের নাম কোথাও নেই।

সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যা করে মীর জাফর নবাব হওয়ায় ঘসেটি বেগমকে প্রথমে বন্দী জীবন যাপন করতে হয়েছে এবং পরবর্তীতে নৌকাডুবিতে মরতে হয়েছে। সিরাজ-উদ-দৌলার পতন হলে নিজেরও করুণ পরিণতি হবে, এটা না বোঝার মত বোকা ঘসেটি বেগম ছিলেন না।

শিমূল সিদ্ধান্তে পৌঁছালো, ঘসেটি বেগম পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করেননি। এটা নিয়ে রেণুর সাথে যৌথভাবে একটা গবেষণা প্রবন্ধ লিখতে হবে।

এবার শিমূল মনোযোগ দিলো ফার্সিতে লেখা পদ্যে। আবারও ইন্টারনেটের সাহায্য নিলো সে, Google Translate-এ Persian থেকে Bangla অনুবাদে সচেষ্ট হলো। অনেক কসরত করে চিঠি দেখে দেখে Persian বক্সে একটা একটা করে হরফ বসালো। প্রথম শব্দটা শেষ করতেই তার বাংলা অর্থ পাওয়া গেল ‘নাম’। কিন্তু, পরবর্তী কয়েকটি শব্দের কোন অর্থ না দেখিয়ে Bangla বক্সে ফার্সিতে লেখা শব্দগুলিই আবার দেখাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে?

শিমূল হঠাৎ বুঝতে পারলো, ফার্সি হরফে লেখা হলেও শব্দগুলো ফার্সি শব্দ নয়, তাই Google বাংলা অর্থ দেখাচ্ছে না। শুধু প্রথম শব্দটা ফার্সি শব্দের সাথে মিলে গেছে। কয়েকবার চেষ্টা করতেই এক পর্যায়ে Google শব্দগুলির বাংলা উচ্চারণ দেখাতে শুরু করলো:

নাম জাদি ফিরিয়া পায়ে গসেতি

বোঝা গেলো, বাংলা শব্দই ফার্সি হরফে লিখে গেছেন ঘসেটি বেগম। আজকাল অনেকে ইংলিশ (আসলে রোমান) হরফে বাংলা লেখেন, যেমন: ‘Tumi ki kal ashbe?’  

সাধু ভাষাকে চলিত করে নিলে পদ্যের প্রথম লাইনটি দাঁড়ায়:

নাম যদি ফিরে পায় ঘসেটি

পদ্যটা এমনভাবে লিখেছেন ঘসেটি বেগম, যার পাঠোদ্ধার করতে বাংলা আর ফার্সি দু’টো ভাষাই জানা থাকতে হবে।

বাকি লাইনগুলির মানে বুঝতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো শিমূল। রেণু বলে দিয়েছে পাঁচটার মধ্যে ওদের বাসায় যেতে হবে।

(৪)

রেণু আর শিমূল গত এক ঘন্টা ধরে ঘসেটি বেগমের লেখা কবিতাটির মানে বোঝার চেষ্টা করছে। চলিত ভাষায় কবিতাটা দাঁড়িয়েছে এমন:

নাম যদি ফিরে পায় ঘসেটি,
পাবে তুমি আপেলের খোসাটি।
ফলটির স্বাদে খোঁজো তুষ্টি?
খোসাতেই আছে তার পুষ্টি।

ঘসেটি বেগমের দুর্নাম দূর করে তার সুনাম ফিরিয়ে দিলে পুরষ্কার দেয়া হবে। পুরষ্কারটা নিশ্চয়ই আপেল বা আপেলের খোসা নয়।

আপেলের খোসার গুণাগুণ বর্ণনা করাও কবিতার উদ্দেশ্য নয়।

‘চিঠিটা ছিলো সিন্দুকের মধ্যে,’ এক পর্যায়ে বললো রেণু। ‘সিন্দুক বা এর মধ্যে রাখা কাপড়-চোপড় ছাড়া আর কোন পুরষ্কার দেয়ার সুযোগ তো ঘসেটি বেগমের ছিল না। এগুলোর মধ্যে কোন একটা নিশ্চয়ই বেশ দামি।’

‘ঘসেটি বেগমের পোশাকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকতে পারে। কিন্তু, এমন নয় যে এগুলো মনি-মুক্তা খচিত পোশাক।’

‘সিন্দুকটা তো বাইরের আচ্ছাদন,’ বললো রেণু। ‘মানে, এটা তো এক ধরণের খোসা। এটার ওজন তো প্রায় পঞ্চাশ কেজি। এটা যদি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়ে থাকে, দাম কত হবে?’

মোবাইলে চেক করে শিমূল হেসে বললো, ‘এগারো হাজার টাকা।’

রেণুও হাসলো। জানতে চাইলো, ‘আর যদি স্টেইনলেস স্টিল হয়ে থাকে?’

‘পনেরো হাজার টাকা।’ এবার দু’জন একসাথে হেসে উঠলো।

রেণু বললো, ‘যদি অন্য কোন রেয়ার মেটাল হয়ে থোকে? কালারটা তো একটু আলাদা।’

তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো শিমূল। বললো, ‘চলো তো দেখি।’

সিন্দুকটা আবার পরীক্ষা করলো দু’জনে। তারপর শিমূল বললো, ‘সবকিছু তো একই মেটালে তৈরি। আমি স্ক্রু খুলে একটা হাতল নিয়ে যাই, চেক করে দেখি কী বস্তু।’

পরদিন সন্ধ্যায় ঘর্মাক্ত কলেবরে শিমূল হাজির হলো রেণুদের বাসায়। মেয়েটার জিজ্ঞাসু দৃষ্টির জবাবে সিন্দুকের হাতলটা একটু তুলে ধরে দেঁতো হাসি দিয়ে বললো, ‘প্ল্যাটিনাম।’

‘দাম কী রকম?’ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো রেণু।

‘কেজি কত আর হবে, এই ধরো –’ দুষ্টুমি ভরা চোখে রেণুর দিকে তাকিয়ে আছে শিমূল। মেয়েটা রেগে যাচ্ছে দেখে দেরি না করে বললো, ‘ত্রিশ লাখ টাকা।’

‘এটা সিন্দুকের মোট দাম?’

‘না, প্রতি কেজির দাম। ইউ আর নাউ এ ভেরি রিচ গার্ল।’

‘আমি না, আমরা। উই আর নাউ এ ভেরি রিচ –’ কথাটা শেষ করতে পারলো না রেণু। ওর দু’গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।

(শেষ)

কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

জাফর আহমেদ খান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

0