কাশ্মীর এক বিতর্কিত উত্তরাধিকার: ১৮৪৬-১৯৯০ (১ম খণ্ড : তৃতীয় অধ্যায়)

জম্মু ও কাশ্মীর এবং বৃটিশ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা : উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের সমস্যা

১ম অংশ
লাদাখ ও গিলগিট এজেন্সির সন্ধি সড়ক
(পূর্ববর্তী সংখ্যার পরে)

পূর্বাঞ্চলীয় তুর্কিস্তানের শাসকদের সাথে বৃটিশ সফরকারী দলের কিছু ধারাবাহিক দেখাসাক্ষাৎ হয় – কিছু ক্ষেত্রে দাপ্তরিক উদ্দেশ্যে আবার কিছু ক্ষেত্রে আপাতঃ দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত পর্যটকের মাধ্যমে। ১৮৬৯ থেকে ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত রবার্ট শ, জর্জ হেওয়ার্ড এবং স্যার থমাস ডগলাস ফোরসাইথ-এর ভ্রমণগুলোর ফলাফল চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৮৭৪ সালের (যা পরবর্তী বছর অনুমোদিত হয়েছিলো) বৃটিশ ও ইয়াকুব বেগের মধ্যকার একটি বাণিজ্যিক চুক্তিতে। এ চুক্তি পূর্বাঞ্চলীয় তুর্কিস্তানের সাথে বৃটিশ ভারতের বাণিজ্যকে এই অর্থে উন্মুক্ত করে যে, এটা যদি সামান্য বাস্তবিক মুনাফাও প্রদর্শন করতে পারে তবে বৃটেনে বাণিজ্যিক লবি তৈরিতে কণ্ঠ জোরালো করার ক্ষেত্রে অন্ততঃ পক্ষে একটা সন্তোষজনক অবস্থা তৈরি হবে। ১৮৭৪ সালের এই চুক্তির ধারা ইয়ারখন্দ বা কাশগড়ে বৃটিশ প্রতিনিধির স্থায়ী স্থাপনা তৈরিও অনুমোদন করেছিলো কিন্তু ইয়াকুব বেগের আমলে তার বাস্তবায়ন হয়নি।১৭

মধ্য এশিয়ার নব বণ্টনের সাথে মূল আন্তর্জাতিক সংশ্লেষকে প্রতিরোধ করতে এর পেছনে যে শক্তিশালী বৃটিশ রাজনীতির উদ্যোগ ছিলো সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ইয়াকুব বেগ ক্ষমতায় আসার সময় থেকেই রুশরা তাঁকে বাগে আনতে চেষ্টা করছিলো কেননা এটা ছিলো তাদের নিকটস্থ সীমান্তবর্তী কিন্তু কাশগড়িয়ার জনকেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক দিনের পথের দূরত্বে (এক্ষেত্রে বৃটিশদের অবস্থান তুলনা করলে তাদেরকে লাদাখ এবং সীমান্তবর্তী উঁচু পর্বত এলাকা অতিক্রম করে আসতে হতো)। ১৮৭২ সালে রুশ কুটনীতিক ব্যারোন কলবারস্ ইয়াকুব বেগের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেন (যার প্রত্যক্ষ জবাব ছিলো ১৮৭৪ সালের বৃটিশ চুক্তি)। জম্মু ও কাশ্মীর এর মহারাজা রণবীর সিং-ও ইয়াকুব বেগের সাথে হাত মেলান যেটা স্বাধীন কুটনীতির ক্ষেত্রে গোপন অতর্কিত হামলার মতো ভারত সরকারের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় (একই সময়ে, আরো গোপনীয়ভাবে ডোগরা শাসক রুশদের এই প্রস্তাব দিয়ে লিখেন যে, তাঁর সহযোগিতা নিয়ে রুশদের ইয়াকুব বেগের শাসনাধীন সারিকল ও তাঘদুম্বাস পামিরের মধ্যে দিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় সীমানার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত)।১৮ অবশেষে ইয়াকুব বেগ অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিনিধির – যাদের কাশগড়িয়ার বিষয়ে সরাসরি নাক গলানোর কোন সুযোগই ছিলো না – তাদের সান্নিধ্যে আসেন বলে জানা যায়; তারা ইয়াকুব বেগকে এই বলে নিশ্চয়তা দেন যে অটোমান আধিপত্যের আওতায় এই দেশের আইনগত শাসক তিনিই হবেন যেটা সেসময়ের মুসলিম বিশ্বে একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।১৯

ভারত সরকার ও ইয়াকুব বেগের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ফল হয়েছিলো এমন যে, বৃটিশরা আকসাই চিন অতিক্রম করে লেহ্ ও কাশগড়িয়ার মধ্যে নতুন পাহাড়ি পথ তৈরির প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলো যেটা জনসন জরিপ করেছিলো। এর পুরাতন রুটটা পূর্বদিক দিয়ে লেহ্ থেকে তাংসের দিকে গিয়েছে, যেখানে এটি ইন্দুর শাখা শায়কের সাথে মিলিত হতে উত্তরে দিক পরিবর্তন করে কারাকোরাম পাসের দিকে চলে গিয়েছে। নতুন রুটটা পূর্বে মোড় নিয়ে চ্যাংচেনমো পর্যন্ত গিয়েছে যেখানে এ স্রোতধারা তাংসের কয়েক মাইল উত্তরে গিয়ে শায়কের সাথে মিলিত হয়েছে। উজানের চ্যাংচেনমো থেকে এটি তিব্বতীয় মালভূমির লিংঝিটাং নামক নদী অববাহিকায় পৌঁছেছে যেখান থেকে এটি লকজুং পাহাড়ি অঞ্চল ও আকসাই চিন সমভূমি হয়ে উত্তর দিকে অতিক্রম করে হাজি ল্যাঙ্গার নামক স্থানে কারাকাশ নদীর সাথে মিলেছে (হাজি ল্যাঙ্গার পর্যটকদের একটি বিশ্রাম কেন্দ্র যা আমির হাজি হাবিবুল্লা খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত)। কারাকোরাম পাস এড়িয়ে উত্তরাঞ্চলের ভাটিতে কারাকাশের ধারা সহিদুল্লাহ অঞ্চলে চূড়ান্তভাবে নতুন রুটের সাথে যুক্ত হয়েছে।২০ ১৮৭০ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজার সাথে একটি চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্য হয় যেখানে এ নতুন রুটকে ‘চ্যাংচেনমো সড়ক” (বা “চুক্তি সড়ক”) নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং চুক্তিমতে “এই মুক্ত মহাসড়কটি চিরস্থায়ী এবং সকল সময়ে সব ধরনের পর্যটক ও বণিকদের জন্য উন্মুক্ত”। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও যান চলাচলে তদারকির বিষয়টি দুইজন যুগ্ম কমিশনারের অধীন ন্যস্ত থাকবে, যার একজন মহারাজা কর্তৃক আর অপর জন ভারত সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। মহারাজা ভারত ও কাশগড়িয়ার মধ্যে যাতায়াতকারী বাণিজ্যের উপর কোন ধরনের কর বা খাজনা আদায় করতে পারবেন না।২১

এ সময়ে বৃটিশ মিশন কর্তৃক ইয়াকুব বেগের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘চ্যাংচেনমো সড়ক’ বা ‘চুক্তি সড়ক’ বহুল ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু সাধারণ বণিকদের কাছে এ সড়কের তেমন গুরুত্ব ছিলো না। এক হিসাবে দেখা যায় যে, ১৮৭০ থেকে ১৮৭৭ পর্যন্ত সময়ব্যাপী বৃটিশ কুটনীতিক মিশনের বাইরে মাত্র ৩৮৮ জন পর্যটক এ সড়ক ব্যবহার করেন। ঐ দশকের শেষের দিকে কাশগড়ে চাইনিজদের প্রত্যাবর্তন হলে এ বাণিজ্য রুটটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ‘চু্ক্তি সড়ক’ নামটি তখন পুরাতন কারাকোরাম পাস রুটটি বোঝাতেই ব্যবহার হওয়া শুরু হয়। ১৮৭০ এর চুক্তির শর্ত তখন চ্যাংচেনমো রুটের পরিবর্তে এই রুটের জন্য কার্যকর হয় এবং শর্তমতে এটি (লেহ্’র প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে) যুগ্ম কমিশনার কর্তৃক তদারকি করা হতো। এভাবে ১৮৬৫ সালে জনসন লিংঝিটাং ও আকসাই চিন এর পতিত ভূমি অতিক্রম করে চাকাওয়ালা গাড়ির জন্য সব ধরনের আবহাওয়া উপযোগী সড়ক তৈরি করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পরিত্যক্ত হয়। এটা মোটর গাড়ি চলাচলের জন্য তিব্বতের সাথে সিনকিয়াং এর সংযোগকারী সড়ক হিসেবে গণচীন কর্তৃক পুনরায় উন্মুক্ত করা হয় ১৯৫০ দশকে যখন কারাকাশ অভিমূখী রাস্তা সহ রুটের উত্তরাঞ্চলীয় অংশ বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে।

শুধুমাত্র বৃটিশ দাপ্তরিক মিশন কর্তৃক ব্যবহৃত হলেও চ্যাংচেনমো সড়ক ব্যবহারকালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের উত্তরাঞ্চল সীমানা স্থাপনের একটি বিষয় তখনো অবশিষ্ট ছিলো। এটা ছিলো আকসাই চিন অঞ্চলের কোন একটি জায়গায় যেটা হাজি ল্যাঙ্গারে কারাকাশের সাথে যুক্ত হওয়া সড়ককে অন্তর্ভুক্ত করেছিলো। (এই সীমানা স্থাপনের মূল প্রয়োজন ছিলো এটা নিশ্চিত করা যে, ১৮৭০ সালের চুক্তি মোতাবেক কোনভাবে সুনির্দিষ্টকৃত বা অন্তর্ভুক্তকৃত আবাসগৃহ, গবাদি পশু খাদ্যগুদাম ও সড়ক নির্মাণকারী শ্রমিক ক্যাম্পগুলো এবং অন্যান্য স্থাপনাগুলো যেন বৃটিশ সংরক্ষিত এলাকাভুক্ত থাকে।) যদিও সমকালীন প্রায় সকল বৃটিশ পর্যবেক্ষক মনে করতেন লাদাখ দখলের কারণে মহারাজা চ্যাংচেনমো উপত্যকার পেছনে খুব বেশি এলাকা পর্যন্ত অধিকার দাবি করতে পারেন না। তবে শহিদুল্লা পোস্ট তাঁর অধিকৃত সীমানার (যেটা প্রকৃতপক্ষে ১৮৬৭ বা ১৮৬৮ সালে পরিত্যক্ত হয়েছিলো) অনেক বাইরে রয়েছে এ বিষয়টি পরিষ্কার না করা পর্যন্ত মহারাজার অধিকারের সীমা নিয়ে তাঁকে চাপ প্রয়োগ করা মোটেও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়া হতো না। কানঝুটির লুণ্ঠনকারী ও হুনজার লোকদের প্রতিরোধ করতে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার শহিদুল্লা পুনরায় দখলের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রাজ্যের সীমানা উত্তরে এতো দূর (বর্তমানের সিনকিয়াং প্রদেশ) পর্যন্ত বিস্তৃত করলে সেটা নিয়ে চাইনিজদের সাথে বিরোধ তৈরি হওয়া সম্ভাবনা থাকায় ভারত সরকার ১৮৮৮ সালে রাজ্যের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ১৮৯২ সালে যখন রাজ্য সরকার পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করে তখন বৃটিশ রাষ্ট্র প্রতিনিধি কর্তৃক কঠোর ভাবে জানানো হয় যে, শহিদুল্লা ও এর দক্ষিণে সুগেট “কিরগিজিয়াবাসীদের এমন একটি জেলায় অবস্থিত যারা বহু বছর যাবৎ চীনকে কর দিয়ে আসছে”। কারাকোরাম পাসের শীর্ষ যেখানে সাম্প্রতিককালে কাশগড়ের চাইনিজ কর্তৃপক্ষ একটি সীমানা স্তম্ভ স্থাপন করেছে সেটাই ভারত সরকারের দৃষ্টিতে ভারতীয় সাম্রাজ্যের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।২২

১৮৯০ দশকের দিকে কোন কোন বৃটিশ কৌশল নির্ধারণকারী সিনকিয়াং দিকে জলধারার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বর্ধিত পাহাড়ি এলাকা সহ লাদাখের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে সমর্থন দিচ্ছিলেন (এ কৌশলের মুল উদ্দেশ্য হতো হয়তো অনধিকারপ্রবেশকারী রুশদের প্রতিহত করার ঢাল তৈরি করা); এমনই একজন স্যার জন আরডাঘ যিনি ১৮৯৬ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত বৃটিশ মিলিটারি ইন্টিলিজেন্স এর পরিচালক-এর দায়িত্বে ছিলেন (তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯৪ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় লর্ড ল্যান্সডাউন এর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন)।২৩ কিন্তু বৃটিশদের দাপ্তরিক মতামত এ ঐকমত্যের দিকেই অগ্রসর হয়েছিলো যে, চ্যাংচেনমো উপত্যকার উত্তর দিকে সীমানা বৃদ্ধি করা উচিত হবে না। সিনকিয়াং এমন একটি বিন্দু যেখান থেকে বৃটিশরা প্রভাব বিস্তার করতে পারতো এবং বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারতো; কিন্তু এটি ছিলো জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের একটি জনমানবহীন প্রান্ত যেটা কৌশলগত আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।২৪ সে সময় পশ্চিমে গিলগিট রুট এর পরিবর্তে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

(চলবে)

১৭. এই বিষয়ক ইতিহাসের বিস্তারিত দেখুন: Alder, Northern Frontier, op. cit.
১৮. মহারাজা রণবীর সিং-এর সাথে ইয়াকুব বেগ ও রুশ উভয়ের যে যোগাযোগ থাকতে পারে এ বিষয়টি ১৮৭২-৭৩ সালে ভারত সরকারের জানা ছিলো। প্রকৃতপক্ষে, ১৮৬৮ সালে তাসখন্দে রুশদের প্রতি রণবীর সিং-এর নিকটবর্তী হওয়া শুরুই হয়েছিলো বৃটিশদের অনুরোধে; এক্ষেত্রে রুশরা কী মতলবে আছে তা খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা নিতে বৃটিশদের অনুরোধ ছিলো। কিন্তু ইয়াকুব বেগ এবং রুশ, পাশাপাশি আফগান কর্তৃপক্ষের সাথে মহারাজা রণবীর সিং-এর যোগাযোগের বিষয়টি ১৮৭৯ সালে দ্বিতীয় আফগান যুদ্ধের আগে খুব একটা সমাদৃত হয়নি, যখন স্যার ফ্রেডরিক রবার্টস্ কর্তৃক কাবুলে বেশ কিছু সংখ্যক নথিপত্র উদ্ঘাটিত হয়।
১৯. ইয়াকুব বেগের সাথে অটোম্যান সাম্রাজ্যের যোগাযোগের একটি চমকপ্রদ কাহিনী জানতে দেখুন: M. Saray, “Turkish Officers Sent to Kashgar in 1874”, Dogu Turkistan Sesi (Voice of Eastern Turkistan), Vol. 2, No. 6, August 1985.
১৯. শহিদুল্লা ছিলো কারাকাশ নদীর ভাটিতে যে কোন আকার বিবেচনায় কারাকোরাম পাসের দিকে প্রথম চাইনিজ উপনিবেশ। আর এর দক্ষিণে সুগেট ছিলো শিবির ময়দানের মতো।কারাকোরাম পাস অতিক্রম করে যে রুটটা গিয়েছে তার তুলনায় নতুন চ্যাংচেনমো রুটটার কিছু সুবিধা ছিলো। এটা ১৮,০০০ ফুট উঁচু কারাকোরাম পাসকে এড়িয়ে গিয়েছিলো; এই উচ্চতা অনেক পর্যটকের জন্যই চরম উচ্চতাজনিত অসুস্থতার কারণ হতো। তাত্ত্বিকভাবে হলেও এই রুটে চাইনিজ অংশের লেহ্ থেকে পুরো পথটা উটে চড়ে অতিক্রম করা যেতো; কারাকোরাম পাসের রুটটাতে উট কেবল মাত্র শায়ক হিমবাহ পর্যন্ত যেতে পারতো, সেখান থেকে মালামাল কোন খচ্চর বা চমরি গাই-এর পিঠে নিয়ে যেতে হতো। অনুরূপ তাত্ত্বিক বিবেচনায়, কারাকোরাম পাসের দিকে মালামাল বহনকারী সড়ক হিসেবে একে পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত ছিলো না।
জনমানবশূন্য লিংঝিট্যাং ও আকসাই চিনে সমতল অতিক্রমকারী চ্যাংচেনমো রুটের বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা ছবিসহ দেখুন: G. Henderson & A. O. Hume, Lahore to Yarkand. Incidents of the Route and Natural History of the Countries Visited by the Expedition of 1870, under T. D. Forsyth, Esq., C.B., London 1873.
২১. দেখুন: Alder, Northern Frontier, op. cit., Appendix II.
২২. দেখুন: Lamb, Ladakh, op. cit., pp-27-31.
২৩. স্যার জন আরডাঘ এর জীবন সম্পর্কে জানতে দেখুন: Susan, Countess of Malmesbury, The Life of Major-General Sir John Ardagh, London 1909.
উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত সম্পর্কের আরডাঘ এর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে দেখুন: (in PRO London) FO 171328. Military Intelligence to Foreign Office, 1 January 1897.
আরডাঘ বিশেষভাবে সীমান্ত সমস্যার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি বলকান ও অন্যান্য সীমান্ত কমিশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি যখন ভারতে ল্যান্সডাউন-এর সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন তখন তিনি দ্বিতীয় গিলগিট এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা আলজেরনন ডুরান্ড, ম্যাকার্টনি, ইয়াং-হাজবেন্ড, ম্যাকমোহন প্রমুখের মতো উল্লেখযোগ্য ভারতীয় সীমান্ত বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৮৯৭ সালে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত নিয়ে তিনি তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন তা সন্দেহাতীত ভাবে অনেকাংশেই এ সকল ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ফসল।
সমর দপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ ছিলো গোপনীয় গোয়েন্দা সেবার অগ্রদূত। এর অন্যতম মনোযোগ ছিলো বৃটিশ সাম্রাজ্য ও উপনিবেশের সীমানা নির্ধারণে, যেটা তারা প্রকৃতপক্ষেই করতো অথবা করা উচিত মনে করতো। স্যার জন আরডাঘ নিজেকে শুধুমাত্র এশিয়া নয়, বরং আফ্রিকার সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে ও তার সমাধান প্রস্তাবে নিজেকে কুশলী হিসেবে প্রমাণ করেন। এটা খুবই সম্ভব যে, গোপনীয় গোয়েন্দা সেবা সীমান্ত বিষয়ে আগ্রহ অব্যাহত রাখে, সাথে সাথে আরডাঘও।
২৪. লাদাখ ও চাইনিজ এলাকার সীমান্ত ইতিহাস - সেটা তিব্বত বা সিনকিয়াং যাই হোক না কেন - একটা জটিল বিষয়; এবং ১৯৫০ দশকে ভারত কর্তৃক আকসাই চিনের ও চীন-ভারত সীমান্তের অন্যান্য অংশের দাবি একে সহজ করার কোন উপায়ই রাখেনি। উদাহরণ হিসেবে দেখুন: Lamb, Ladakh, op. cit.; A. Lamb, The China-India Border. The Origins of the Disputed Boundaries, London 1964; D. Woodman, Himalyan Frontiers. A Political Review of British, Chinese, Indian and Russian Rivalries, London 1969; J. Lall, Aksaichin and Sino-Indian Conflict, New Delhi 1988. এর মধ্যে সর্বশেষ বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি বর্তমান লেখক ও ডরোথি উডম্যান এর লেখার মতো পূর্ববর্তী অভারতীয় গবেষণা থেকে বের হয়ে এসে খুব সম্ভবত দাপ্তরিক পৃষ্ঠপোষকতায় আকসাই চিন দাবির বিষয়ে ভারতীয় কুটনীতির ফলাফল নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য লেখা।
কমেন্ট করুন
ব্যবস্থাপক |

সদস‍্য, সম্পাদনা পর্ষদ, প‍্যাপাইরাস

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন:১৯৯৯-২০০০

রোকনুজ্জামান

সদস‍্য, সম্পাদনা পর্ষদ, প‍্যাপাইরাস প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেশন:১৯৯৯-২০০০

0