সম্পাদকীয় – নভেম্বর ২০২০

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০-এ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন। পরিসংখ্যানবিদেরা বলেছিলেন, এসব রাজ্যে ট্রাম্প গো-হারা হারবেন। বাস্তবে তেমন হয়নি।

গো-হারা হেরেছেন পরিসংখ্যানবিদেরা। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তারা গো-হারা হেরেছিলেন। এমন চলতে থাকলে পরিসংখ্যানের উপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

আমরা পরিসংখ্যানবিদেরা উত্তরদাতা (respondent)-দের কাছ থেকে ড্যাটা সংগ্রহ করে কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ড্যাটা ‘ক্লিন’ করে ফলাফল বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একজন উত্তরদাতার কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যেকটা শব্দ বা সংখ্যার পেছনে যে মনস্তত্ত্ব থাকে, তা বুঝতে চেষ্টা করি না। আমেরিকার নির্বাচনের কথাই ধরুন। ট্রাম্প এমন একজন বিতর্কিত মানুষ, যাকে মনে মনে সমর্থন করলেও অনেকে তা স্বীকার করবে না – এ কথা পরিসংখ্যানবিদেরা বিবেচনা করেননি। তাই জনমত জরিপে ট্রাম্পকে দুর্বল প্রার্থী মনে হয়েছে।

আরেকটি সমস্যা হলো, পরিসংখ্যান ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল ফোরকাস্ট করলে ভোটারদের আচরণে পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফোরকাস্টে যাকে ‘বিজয়ী’ মনে হয়, তার সমর্থকদের মধ্যে হয়তো ঢিলেমি চলে আসে। আবার, ‘পরাজিত’ প্রার্থীর সমর্থকেরা মরিয়া হয়ে দলে দলে ভোট দিতে চলে যেতে পারে। এতে হয়তো মাঝে মাঝে ফলাফল বদলে যায়, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে। একে বলা যেতে পারে ‘forecasting effect’ বা ‘পূর্বাভাসের প্রভাব’।

নির্বাচন ছাড়াও অন্য অনেক ক্ষেত্রে forecasting effect থাকতে পারে। তাই, যে কোনও ফোরকাস্ট করার আগে একজন পরিসংখ্যানবিদকে এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।

কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

জাফর আহমেদ খান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

0