সম্পাদকীয় – অক্টোবর ২০২২

উপহার পাওয়া একটি সাতনরি হার নিয়ে ঝামেলায় আছি।

‘সাতনরি হার’ বলতে কী বোঝায়, তা জানতে বাংলা একাডেমীর ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ এর সাহায্য নিতে হলো। জানা গেল, কথাটির অর্থ: “সপ্তপেঁচি কণ্ঠহার, যে কণ্ঠহারে সাতটি প্যাঁচ আছে।” কিন্তু, ইন্টারনেটে সাতনরি হারের কোনও ছবিতেই সাতটি প্যাঁচ দেখলাম না।

তবে, আমাদের উপহার পাওয়া সাতনরি হারে সাতটি প্যাঁচই আছে। একটি দু’টি নয়, সাতটি কলেজ উপহার পেয়েছি আমরা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।

এই সাতটি কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিলো। এদের পরীক্ষা সামলাতে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তখন লেজে-গোবরে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নয় মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় ছাত্ররা আন্দোলন করছিলো। এ অবস্থায় সাত কলেজের সাথে আমরা সাত পাকে বাঁধা পড়লাম।

এই বিরল উপহার নিয়ে তিন রকমের ধারণা চালু আছে:

(১) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেয় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছেন (দুই উপাচার্যের সম্পর্ক ছিলো সাপে-নেউলে)।

(২) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্বটা অফার করতেই আমাদের উপাচার্য তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে এক হাত নেয়ার সুযোগটা লুফে নিয়েছেন।

(৩) সাতটি কলেজ সামলাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হবে, তা আমাদের উপাচার্য বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু, পদ হারানোর ভয়ে না করতে সাহস পাননি। অর্থাৎ, ‘সাত চড়েও’ রা করেননি।

প্রকৃত ঘটনা যা-ই হোক, উপাচার্য মহোদয়ের দোষ রয়েছে। তাঁকে সাত কথা না শুনিয়ে পারা যাচ্ছে না।

এখন আমাদের অবস্থা দেখে একটি প্রবাদের কথা মনে পড়ছে: ‘সাত নকলে আসল খাস্তা’। কলেজের কাজ করতে করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করার সময় পান না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও ক্ষুব্ধ, কারণ সাত কলেজের ছাত্ররা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পাচ্ছে।

সাত কলেজের ছাত্রদেরকে হেয় করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার জন্য কারও পায়ে ধরেনি। তাদেরকে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

মজার কথা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক যেন সাত রাজার ধন মানিক হাতে পেয়েছেন। কলেজের শত শত খাতা দেখে (বা দেখার ভান করে) তারা হাজার হাজার টাকা কামাচ্ছেন। আবার, কিছু শিক্ষক এই ভেবে পুলকিত যে, ‘সাত কলেজ আমাদের আন্ডারে আছে।’ তারা বোধ হয় জ্বলন্ত চুলার উপরে বসেও বলবেন, ‘চুলা আমার আন্ডারে আছে।’

এই সাতনরি হার গলার ফাঁস হওয়ার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কণ্ঠ থেকে খুলে ফেলার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

জাফর আহমেদ খান

প্রাক্তন শিক্ষার্থীপরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪