সম্পাদকীয় – ডিসেম্বর ২০২২

লঞ্চডুবি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

নানা কারণে লঞ্চডুবি হয়– দুর্ঘটনা, ঝড়, লঞ্চের ডিজাইনে ত্রুটি। প্রচণ্ড ঝড়ে পড়লে কারো কিছু করার থাকে না। ডিজাইনে ত্রুটি থাকলে অল্প ঝড়েও লঞ্চডুবি হতে পারে।

ধরা যাক লঞ্চের ডিজাইনে কোনও ত্রুটি নেই। সে ক্ষেত্রেও, অল্প ঝড়ে লঞ্চডুবি হতে পারে দুটি কারণে। এক, সারেং-এর অদক্ষতা। দুই, আতংকিত যাত্রীদের আচরণ।

যাত্রীরা কীভাবে লঞ্চ ডোবায়, তা বোঝার চেষ্টা করা যাক। ঝড়ে পড়লে লঞ্চটা অনেক দুলতে থাকে। একবার বামদিকে, একবার ডানদিকে কাত হয়। যাত্রীদের অনেকে তখন আতংকে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চটা একদিকে, ধরা যাক বামদিকে, কাত হলে যাত্রীরা একযোগে ডানপাশে দৌড়ে যায়। ফলে, লঞ্চটা ডানদিকে অনেক বেশি কাত হয়ে যায়। যাত্রীরা তখন আরো বেশি ভয় পেয়ে একযোগে বামপাশে ছুটে গিয়ে লঞ্চটাকে বামে অনেক কাত করে ফেলে। অবস্থাটা দাঁড়ায় এমন: লঞ্চ কাত হচ্ছে বলে যাত্রীরা আতংকে দৌড়াচ্ছে, আবার যাত্রীরা দৌড়াচ্ছে বলে লঞ্চটা আরো বেশি কাত হচ্ছে একপর্যায়ে উল্টে যাচ্ছে।

এবার দেশের কথা ধরা যাক। দুর্নীতিবাজ আমলা আর রাজনীতিবিদেরা বহুদিন ধরে টাকা চুরি আর পাচার করার পরও দেশটা উন্নতি করছিল। কিন্তু, করোনা আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এটি হঠাৎ ‘ঝড়ে’ পড়েছে।

আমরা এখন ধৈর্য ধরে ঝড় থেমে যাওয়ার অপেক্ষা করতে পারি। আবার, গুজবে কান দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে ছুটোছুটি করে দেশটাকে ডুবিয়ে দিতে পারি।

আমাদের যেমন ইচ্ছা।

কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

জাফর আহমেদ খান

প্রাক্তন শিক্ষার্থীপরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সেশনঃ ১৯৮৩ - ৮৪

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্যাপাইরাসের অনলাইন সংস্করণের ৪র্থ বর্ষপূর্তি

প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য